Posted on

খরগোশের বাচ্চার যত্ন

খরগোশের  বাচ্চার যত্ন

– অভিজ্ঞতা থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

যদি খরগোশের মা হঠাৎ করে মারা যায়, অথবা বাচ্চাদের দুধ না দেয়, তখন অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বাচ্চাদের কী খাওয়ানো হবে, তারা বাঁচবে তো—এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খায় মনে। যারা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, তাদের জন্যই এই লেখা।

এখানে সহজ ভাষায় কিছু দরকারি পরামর্শ দেওয়া হলো, যাতে আপনি খরগোশ বাচ্চার যত্ন নিতে পারেন।

মা খরগোশ কি সত্যিই দুধ দিচ্ছেন না?

খরগোশ মায়েরা সাধারণত সারাদিন বাচ্চাদের সঙ্গে থাকেন না। দিনে এক বা দুইবার তারা চুপিসারে এসে বাচ্চাদের দুধ খাওয়ান এবং পরে সরে যান, যাতে শিকারি প্রাণীরা তাদের খুঁজে না পায়।

তবে যদি দেখা যায় বাচ্চারা ঠাণ্ডা হয়ে গেছে, ত্বক কুঁচকে গেছে, পেট ফাঁপা বা নিস্তেজ হয়ে আছে, তাহলে বুঝতে হবে মা খরগোশ হয়তো দুধ দিচ্ছেন না অথবা দুধ যথেষ্ট হচ্ছে না।
বাসা তৈরি করা:-
খরগোশ বাচ্চাদের উষ্ণতা ও নিরাপত্তা দরকার। একটি ছোট্ট বাক্সে নরম তোয়ালে বিছিয়ে তার ওপর শুকনো খড় বা ঘাস দিন। যদি মা খরগোশের লোম পাওয়া যায়, তবে তা ব্যবহার করলে বাচ্চারা আরও আরামবোধ করে। না থাকলে তুলার বল বা নরম কটনের কাপড় ব্যবহার করা যেতে পারে।

খাওয়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস:

যা লাগবে:

ছাগলের দুধ (ফ্রেশ ও অনসুইটেনড)

KMR (Kitten Milk Replacer)

হেভি ক্রিম (একটু ক্যালরি বাড়াতে। চিনি ছাড়া )

যদি পাওয়া যায়, তাহলে কলস্ট্রাম (Colostrum) খুব উপকারী


ঘরোয়া ফর্মুলা:

১/২ কাপ ছাগলের দুধ + ১/২ কাপ KMR + ১ চা চামচ হেভি ক্রিম


এটি হালকা কুসুম গরম করে খাওয়াতে হবে, শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার কাছাকাছি করে।


—

কীভাবে খাওয়াবেন?

ছোট সিরিঞ্জ ব্যবহার করে খুব ধীরে ধীরে খাওয়ানো সবচেয়ে নিরাপদ। খরগোশ বাচ্চাদের কখনো পেটের ওপর শুইয়ে খাওয়ানো যাবে না। বসিয়ে বা বুকে হেলান দিয়ে রাখলে নিরাপদ হয়।

খাওয়ানোর সময় লক্ষ্য রাখুন যেন দুধ নাকে বা ফুসফুসে না ঢুকে যায়—এটি মারাত্মক হতে পারে। প্রথম দিকে বাচ্চারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে খাবে না, কিন্তু ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে যাবে।


প্রস্রাব ও পায়খানা করানো

প্রতিবার দুধ খাওয়ানোর পর গরম পানিতে ভেজানো তুলা বা নরম কাপড় দিয়ে নিচের অংশ আলতোভাবে মুছলে বাচ্চারা প্রস্রাব ও পায়খানা করে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ খরগোশ বাচ্চারা নিজেরা এই কাজ করতে পারে না।

দিনে কয়বার খাওয়াবেন?



কঠিন খাবার কবে দিবো?
৩ সপ্তাহের পর থেকে…
এই সময় থেকে বাচ্চারা ধীরে ধীরে কঠিন খাবারে অভ্যস্ত হতে শুরু করে। সামনে শুকনো খড় এবং গুণগত মানসম্পন্ন খরগোশ প্যালেট দিন।

এছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ খরগোশের cecotrope (নরম, চকচকে পুটি জাতীয় মল) বাচ্চাদের খাওয়ানো খুব দরকার, কারণ এর মাধ্যমে হজমের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাকটেরিয়া বাচ্চার শরীরে প্রবেশ করে।


—

কখন দুধ বন্ধ করবেন?

প্রায় ৬ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত দুধ খাওয়ানো উচিত। এরপর ধীরে ধীরে দুধের পরিমাণ কমিয়ে, ফর্মুলা পাতলা করে দিয়ে দুধ বন্ধ করে দেওয়া যায়
 লিখা ঃ jahidul raju
প্রতিষ্ঠাতা ঃ Rabbit Welfare Society of Bangladesh

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *